আন্দোলনে নারী

সমাজকে নারীবান্ধব করতে হলে,প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

রাজধানী শহর ঢাকার রাস্তায়,একটা মেয়ে স্কুটি চালিয়ে গেলে,  কারো নজর এড়ায় না।  ট্রাফিক সিগনাল বা জ্যামে থাকার সময় আশেপাশের আরোহীদের বাঁকা চাহনি,রিক্সাচালকের ব্যাঙ্গাত্মক হাসি,বিভিন্ন শ্রেণীর পথচারীদের বিদ্রুপ তো লেগেই থাকে ।এ যেন এক সাধারন দৃশ্য।

যখন রাস্তায় মেয়েরা স্কুটি নিয়ে বের হয়, তখন কিছু কুরুচি সম্পন্ন লোক  স্কুটির চেয়ে মেয়েদের  শরীরের দিকে বেশি চেয়ে থাকে।

সব থেকে ভয়ংকর হল স্কুটি চালানোর সময় পিছন থেকে অনেক ছেলে আছে যারা মোটরবাইক নিয়ে টার্গেট করে, ধাক্কা দেওয়ার জন্য।যদি কোনো মেয়ে  সচেতন না হয় ,তাহলে অ্যাকসিডেন্ট নিশ্চিত।

ঢাকায় রাস্তায় এখন অনেক মেয়েকেই স্কুটি চালাতে দেখা যায়, এমনকি মেয়েদের দ্বারা চালিত অ্যাপ ভিত্তিক রাইডও রয়েছে।

মেয়েদের যতোই অ্যাপ ভিত্তিক রাইড  থাকুক না কেনো, রাত ১০টা মধ্যে বাসায় ফিরতে হয়।এদিক দিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন হয়নি। বেশি রাত হলে রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।

যেখানে  ছেলেরা রাত ১২টা পর্যন্ত শুধু মাত্র আড্ডা দেয়ার জন্য বাইরে থাকে সেখানে মেয়েদের সব কাজ ফেলে ১০ টার মধ্যে বাসায় ফেরার তাড়া থাকে।

কাজের প্রয়োজনে অনেক মেয়েদের  নাইট শিফট করতে হয়। তাদের শুনতে হয় সমাজের বিচিত্র, অশালীন কথা।সন্ধ্যার পরেই মেয়েদের বাড়ী ফেরার তাড়া থাকে।

নারীদের যে আচরণগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়,সেগুলো সাবলীল আচরণ। কিন্তু পুরুষ সদস্যরা সেগুলোকে স্বাভাবিকভাবে দেখে না। এর কারণ হল পুরুষ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছে মেয়েদের আচরণগুলো এই এই বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে হবে।

মেয়েদেরকে একটা নির্দিষ্ট আচরণিক গণ্ডির মধ্যে দেখতে পছন্দ করে। এর বাইরে যদি কোন মেয়ে কোন আচরণ করে তখন সেটা তারা মেনে নিতে পারেনা। এমনকি আমাদের দেশে যারা নাগরিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত তারাও এটা মেনে নিতে পারে না।

যে প্রসঙ্গে কথা হচ্ছে এই প্রসঙ্গটি নতুন নয়। কিন্তু প্রতিবার নতুন নতুন পরিস্থিতির মুখে মেয়েদেরকে পড়তে হয়, যেটাকে পরিস্থিতি না বলে ,বলা উচিত হয়রানি, যৌনহয়রানি, শারীরিক, মানসিক হেনস্থার শিকার।যে কাজ পুরুষরা করেন সেই কাজ নারীরা করলেই প্রশ্নের মুখে পড়েন।

একজন পুরুষ অনায়াসে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে বেড়াতে যেতে পারে। কিন্তু কোনো সাধারন মেয়ে এভাবে যাবার সাহসও করে না।কারন ,পরিবারের কঠোর নিয়ম সকল মেয়েদের মানতেই হয়।

মেয়েরা সন্ধ্যার পর বাইরে থাকতে পারবে না।আমাদের দেশে সেই নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয় নি।অনেক নারীদের কাছ থেকেও শুনতে হয় বিভিন্ন রকম অপমানসূচক মন্তব্য।অনেকেই বলেন,নারীদের কাজের কি প্রয়োজন।কিছু পরিবারে, মেয়েদের কোথাও যেতে হলে  সাথে অন্য কারো সাহায্য নিতে হয়।।

নারী সাংবাদিকদের  অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য  বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। দেখা যায় অফিস সময় শেষ হয়ে গেলেও সেখানে তাকে কাজের খাতিরেই থাকতে হয় কিন্তু যখন সে বের হয়ে যায় তখন সে প্রতিষ্ঠানের সহকারী থেকে শুরু করে অন্যান্য কর্মকর্তাদের চোখেও অশালীন চাহনি বা মাঝে মাঝে তির্যক/অশালীন মন্তব্য করতে শোনা যায়।

রাজধানী ঢাকা শহরের মত ঢাকার বাইরেও একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় মেয়েদের। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হলে প্রথমত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

এর পরিবর্তন করতে হলে গোড়া থেকে অর্থাৎ পরিবার থেকে কাজ শুরু করতে হবে। সেখানে মেয়ে অথবা ছেলেদের আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ যাতে তৈরি না হয় সে ব্যাপারটা যথেষ্ট শক্ত ভাবে শিখিয়ে দিতে হবে। এরপর স্কুল। স্কুল পর্যায়ে প্রথম থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভুক্তভোগী নারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মেয়েদের বিভিন্ন রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে যাতে পরতে না হয় সেজন্য দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার উপর  জোর দিতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।তবেই আমাদের সমাজটা্ হবে নারীবান্ধব।

 

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker