আন্তর্জাতিক

নাগরিকত্ব আইন: উত্তর প্রদেশে নিহত বেড়ে ১১

নাগরিকত্ব আইন: উত্তর প্রদেশে নিহত বেড়ে ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তর প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৮ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন মেরুতে, এর মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় পদদলিত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

এর আগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এতে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়ায় শুক্রবার ভারতের উত্তর প্রদেশে নিহত হয়েছেন ১০ জন। এ নিয়ে ৪৮ ঘন্টায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এই সংবাদ মাধ্যমটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ডিজিপি পিভি রামশাস্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, মাত্র ৬ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পুলিশ সহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন, তবু উত্তর প্রদেশের ডিজিপি ওপি সিং আবারো বলেছেন, পুলিশ একটি গুলিও করে নি। বড়োধরা ও জাবালপুর থেকে সহিংসতার খবর পওয়া গেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, চলমান এই বিক্ষোভ প্রতিবাদ দেশটির নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছিল। তবে সেসব বিক্ষোভ বেশির ভাগই শান্তিপূর্ণ।

ওদিকে আওরঙ্গবাদ, মহারাষ্ট্রতে পুলিশ জারি করেছে ১৪৪ ধারা। শনিবার থেকে শুরু হয়ে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। শনিবার নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসার পর এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। লাঠিচার্জ করেছে। তারপরও তারা রাজপথ ছাড়ে নি। আমরোহা, বিজনোর, মুজাফ্ফরনগর, বুলন্দশাহর, হাপুরে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর অথবা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় আজ শনিবার উত্তর প্রদেশ সরকার সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। এখানে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বৃহস্পতিবার ও শনিবারও স্কুল বন্ধ ছিল।

১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসিসহ অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই আইনে।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker